অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের ব্যর্থতার ৯ টি কারণ
লেখক,মোঃ মাকসুদুজ্জামান খান
বিষয়টা রীতিমত হৃদয়বিদারক।
আমাদের দেশের তারুণ্যের আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, মানসিক যোগ্যতা, আশা এবং একই ধরনের কাজে পরস্পরকে সহায়তা করার জন্য বিশাল বিশাল কমিউনিটি।
তারপরও, আমরা, উঠতি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা একই ধরনের সমস্যার ফাঁদে বারবার পড়ি।
এর ফলাফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়, পথ ছেড়ে দেয়া বাকী পৃথিবীর জন্য। বাংলার আরো একজন পারতো, ফ্রি ফ্লোটিঙ আর্ন নিয়ে আসতে; আর হয় না।
খুব সামান্য কিছু গ্লিচের জন্য, খুব সিলি কিছু ভুল আমরা অনেকে বারবার করার কারণে।
নিজের স্টাডি পারপাস, নেটওয়ার্কিঙ এবং কমুনিটির কাজে লাগার আশায় কিছুদিন আগে আমি ওয়েবসাইট ও কিওয়ার্ড দেখে দেয়ার কথা বলেছিলাম একটা পোস্টে।
পাশাপাশি আমি সাইট সেল করতে চাওয়া ভাইদের সাথে মাঝে মাঝে যোগাযোগ করি, তাঁদের সাইট অ্যানালাইসিস করি, শেষতক কিনতে পারি না যদিও (আসলে কেনার চেয়ে বিক্রির কারণ বোঝাই আমার মূল উদ্দেশ্য থাকে, ইচ্ছা থাকলেও হয়তো রিসোর্সের জন্য কেনা হয় না)।
এই বিষয়গুলো যে এমন সাঙ্ঘাতিকভাবে কিছু নগ্ন সত্যকে সামনে নিয়ে আসবে, ভাবিনি। হি ওয়র্কস ইন আ মিস্টিরিয়াস ওয়ে। আলহামদুলিল্লাহ্।
বিষয়টা আরেকটু ভেঙে বলতে গেলে, আমরা সাধারণত একই নিশে কাজ করি অনেক অনেক বাংলাদেশি। একই প্রোডাক্ট, একই কিওয়ার্ড। ডিজাস্টার আর কাকে বলে?
এ পোস্টে আমরা ভুলগুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি, সেগুলো থেকে উতরে যাবার চেষ্টাও করছি।
এনাফ ইন্ট্রো,
Page Content Highlights
আমরা এখানে ‘স্ট্রাগলিঙ মার্কেটার’ বলতে কাদের বুঝছি?
১. যে ঠিক করে ফেলেছে যে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট করবে। তা যে অবস্থাতেই থাক না কেন।
২. যে সাইট বানিয়ে/কিনে ফেলেছে, কিন্তু আয় শুরু করেনি।
৩. আয় শুরু করেছে, কিন্তু সময়ের বিপরীতে তা অতি কম। ধরে নিতে পারি মাসে ৫০ ডলার আসা শুরু করেনি, সময় অনেক গেছে।
৪. যে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটের বিষয়ে হতাশ হয়ে যাচ্ছে, বা আপাতত কাজটা ছেড়ে দিতে চাচ্ছে।
অবশ্যই, আমি নিজেও এ শ্রেণীতেই।
হৃদয়বিদারক স্বপ্নমৃত্যুফাঁদগুলো খুবই কমন। বারবার, একের পর এক মানুষ একই ফাঁদে পড়ছেন।
অথচ আমরা যদি বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করতে পারি, তবে এই ক্লিশে বিষয়গুলো সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব। যেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারি অন্তত, ‘ব্যর্থ হলে আরো বড় কারণে হব, একই কারণে এতজন না!’

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের ব্যর্থতার ৯ টি কারণ এর সম্ভাব্য প্রতিকার:
১. সফল হতে কত সময় লাগবে সেটা না জানা:
আমাদের একটা কমন প্যাটার্ন আছে। একই সোসাইটির মানুষ একইভাবে চিন্তা করে কম আর বেশি। আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ, আমাদের ভাবনার প্যাটার্ন তো কাছাকাছি হবেই।
আমরা আশা করি, ‘সফল হতে’ ছয় মাস সময় লাগবে। আমাদের সাফল্যের সংজ্ঞা কিন্তু খুবই সামান্য। আমরা সাধারণত অতি লোভী না। মাসে ৫০০/১,০০০ ডলার আয় করা মানে সফল হওয়া।
বা একটা সাইট ১০ থেকে ২৫ হাজার ডলারে বিক্রি করা মানে সফল হওয়া না।
পোস্ট পড়া ও ভিডিও দেখা শুরুর ছয়মাসের মধ্যে ৫০০ ডলার আসার সম্ভাবনা ১% ও নেই।
সাইট ঠিকভাবে লঞ্চ করলে, কিওয়ার্ড রিসার্চ অতি ভাল হলে, সেরা আরটিকেল নিয়মিত বিরতিতে পাবলিশ হলে, ম্যাচিওরড লিঙ্ক বিল্ডিং হলে ছয় মাসের মধ্যে মাসে ৫০০ ডলার আসার সম্ভাবনা ৫% হতে পারে।
কিন্তু আমরা আশা করতে পারি, সাইট উপরের প্যারার মানে লঞ্চ করে সেভাবে কাজ করলে ১০ মাসের মধ্যে মাসে ৫০০ ডলার আসার সম্ভাবনা ৪০%।
সে হিসাবে কাজ করলে প্রথম সাইটটা বিক্রি করে ১০-২৫ হাজার ডলার আসার সম্ভাবনা সাইট লঞ্চের ১৫ মাসের মধ্যে হয়তো ৮০%।
২. সফল হতে কত টাকা লাগবে সেটা না জানা:
(লিঙ্ক কিনলে এবং আরটিকেল লেখালে)
একটা লো কম্পিটিটিভ ন্যারো নিশও যদি আপনি নেন, তবে আপনার খরচ হবে সাধারণত ডোমেইন কেনা থেকে ১০ মাসে ৪০০ থেকে ২,০০০ ডলার।
খরচটা একবারে করে ফেললে হবে না, কারণ গুগল নিয়মিত আরটিকেল ও ন্যাচারালি ধীরে লিংক আসাকে গুরুত্ব দেয়। তাই আপনাকে খরচটা ভাগে ভাগে করতে থাকতে হবে। বাসা থেকে এক মুঠোয় টাকা আনলে হবে না।
আর আপনি যদি ইংরেজিতে এবং লিংক বিল্ডিংএর নেটওয়ার্ক ও কৌশলে গ্রহণযোগ্য দক্ষতা রাখেন, তবে খরচ ২০ ডলারেও চলতে পারে প্রথম বছর।
৩. পারসোনাল মেন্টর না থাকা:
হায়, এটা সবচে কষ্টকর জায়গা।
মানুষ এম্নি এম্নি খুঁড়ে সঠিক বিষয় বের করতে পারে খুবই কম।
এই না পারা কোনও বেসিক অযোগ্যতা নয়। ট্রায়াল এন্ড এরর বেসিসে বিষয় ঠিক করতে করতে টেকনোলজি পাল্টে যাবে।
গুগলে সবই আছে, কিন্তু গুগল পকেটে নিয়ে শতকোটি মানুষ বলতে গেলে না খেয়েও আছে।
তাদের ইচ্ছারও অভাব নেই, প্রাথমিক যোগ্যতারও অভাব নেই, কিন্তু গুগলে থাকা আর মস্তিষ্কে থাকা যে এক কথা নয়!
গুগলের মাধ্যমে পেয়ে কোনটা ঠিক কোনটা ভুল আর কোন্ বিষয়টার পর কোন্ বিষয়টা কীভাবে আসবে, তা তাদের জানার কথা নয়!
আর কোর্স কখনোই মেন্টরশিপের বিকল্প নয়। আমাদের দেশে একাধিক চমৎকার কোর্স আছে। এবং সেগুলো খুবই সহায়ক। আমি তো বলব, কোর্স- দেশি হোক বা বিদেশি, না করা থাকলে সফল হওয়া আরো কষ্টকর।
সেসব কোর্স থেকে আপনি গোপন কিছু কমুনিটিতেও যুক্ত হবেন। সেখান থেকে লাকি হলে মেন্টর পেয়েও যেতে পারেন। অনেক সুবিধা।
কিন্তু পারসোনাল মেন্টর ছাড়া কেউ আপনার পথের ভুলগুলো ঠিকভাবে ধরিয়ে দিবে না।
পারসোনাল মেন্টর বলতে আমরা বুঝি যে আপনাকে অনেকটা হাতে ধরেই বলে দিবে, এটা ঠিক আর ওটা ভুল।
পারসোনাল মেন্টর সে-ই হতে পারে, যে এক বা একাধিক সাইটে কয়েক মাস ধরে মাসে ৫০০ ডলারের বেশি আর্ন করেছে। বা সাইট ফ্লিপ করেছে।
এটা বলতে কিন্তু খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। কিন্তু আমাদের পারসোনাল মেন্টর থাকে না, তার দোষ মূলত আমাদেরই। আমরা একটা সহজ স্বাভাবিক স্বত:স্ফূর্ত কনভারসেশনের দক্ষতাও রাখি না।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের ব্যর্থতার ৯ টি কারণ এর কিছু কমন কারণ
৪. একই কিওয়ার্ড/ প্রোডাক্ট/ ন্যারো নিশ এ এসে ঝাঁপিয়ে পড়া:
কত্তবার দেখছি একই বিষয়!
আমাকে যিঁনি অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েটের পথ দেখিয়েছেন, তিনি ও আমি হুবহু একই কিওয়ার্ড-নিশ-প্রোডাক্ট নিয়ে সাইট বানিয়ে বসে আছি।
অবশ্যই, কেউ কারোটা দেখিনি।
তাহলে কপাল এভাবে পুড়ল কীভাবে?
ওইযে, আমরা চিন্তা একইভাবে করি। প্রোডাক্ট একইভাবে ব্রাউজ করি। লজিক্যাল ডিডাকশন একইভাবে নেই। একই টুল দিয়ে একই কেডি কেসি দেখি।
সাইট কিনতে গিয়েও দেখেছি আরেক ভাই যেটা ছেড়ে দিচ্ছেন সেটা আমারই নিশ, আমার প্রোডাক্ট না যদিও।
এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?
আসলে আমরা কিওয়ার্ড রিসার্চ নিজে নিজে শুরু করার ২-৩ মাসের মধ্যে যা করব, তা খুব বেশি দক্ষ কিছু হবে না।
ফলে সবাই যা করে, নিজেও তা-ই করব।
এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়, জায়ান্ট মেন্টরদের সাথে যে কোনভাবে যোগাযোগ করে কিওয়ার্ড দেখানো।
আস্থা রাখুন, তাঁরা একটা কিওয়ার্ড দেখে দিতে কার্পণ্য করবেন না।
আর কিওয়ার্ড নিয়ে নেয়া?
যারা এর মধ্যেই হাজার ডলার করে আয় করেন বা সাইট ফ্লিপ করে বসে আছেন, তারা আপনার আমার কিওয়ার্ড নিয়ে নিবেন না।
ডিফল্টভাবেই তাদের কাছে হাজার হাজার কিওয়ার্ড নিজের জন্য সাজানো আছে।
বরং তাঁরা জানেন, কমিউনিটিতে রিপিট হচ্ছে কোন্ বিষয়গুলো। কোন্ কিওয়ার্ড গণতান্ত্রিক সম্পদ হয়ে গেছে। আপনাকে তিনি সে ফাঁদ থেকে সরিয়ে আনবেন শুধু একটা শব্দ, ‘না’ বলে।
তবে এ ভুলটা করবেন না,
তাদের কিছু বের করে দিতে বলবেন না। এ সময়টা তাদের নেই।
একবার লজিক্যালি চিন্তা করুন, আপনার জন্য একজন মানুষ পুরোদস্তুর গবেষণা করে দেয়ার সুযোগ কি পাবে? এতবড় কমুনিটিতে প্রতিনিয়ত তাকে হেল্প করতে হয়। বরং ১-৩ টা কিওয়ার্ড/নিশ/প্রোডাক্ট মেইল/ইনবক্স/টেক্সট মেসেজ/ফোন বা
দেখা করে জানান না। ৯০% ক্ষেত্রে তাঁরা ফিরিয়ে দিবেন না।
জিতবেন আপনিই। বলতে গেলে জীবনের তরে।
যদি মেন্টরদের হেল্প চান,
তবে তাদের সাথে খোশগল্প করার চেষ্টা করবেন না। জবাব দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও পারবে না।
একটা কথা লিখে জবাবের অপেক্ষা করবেন না। বরং মাল্টিপল মেসেজে পুরো কথাটা একবারে বলে ফেলবেন।
এবং নিজের সমস্যাটা এমনভাবে উপস্থাপন করবেন যেন তিনি শুধু হ্যা/না দিয়ে উত্তর দিতে পারেন।
ব্যাখ্যা করতে হলে সে সুযোগ হয়তো তার নেই।ঠকবেন আপনিই।
৫. কাজ শেখাকে অবহেলা করা:
এর কোন ব্যাখ্যা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যারা কাজ শেখাকে অবহেলা করে তারা সাফল্য ডিজার্ভ করে না।
৬. প্রয়োজনীয় কমিউনিকেশনের ইংরেজি না জানা ও ইংরেজি পড়ে বুঝতে পারার সামর্থ্য না থাকা:
খেয়াল করুন, এটা কিন্তু বলছি না, যে আরটিকেল লিখতে পারতে হবে নেটিভ টোনে। কিন্তু এট লিস্ট লিংক রিচআউটের জন্য ইংরেজিটা তো জানা থাকতে হবে! আরটিকেল রাইটারকে তো বুঝিয়ে বলতে হবে! বস্তা বস্তা ব্লগ ও ভিডিও তো দেখে শুনে পড়ে বুঝতে হবে!
৭. টেকনিক্যাল নলেজের ডেপথের উপর নির্ভর না করে স্রেফ প্রশ্ন করে জেনে নেয়ার টেন্ডেন্সি:
টেঁকা যাবে না দুদিনও। সার্চ করতে শিখে নিতে হবে আমাদের। একটা টপিক চোখে পড়ার সাথে সাথে সেটা নিয়ে গুগল করতে পারতে হবে।
গুগলে জাঙ্ক আসবে না? আসবে, কোন্-টা ভাল সোর্স
তা বুঝতে পারতে হবে। সে সোর্স থেকে নিয়মিত পড়তে-দেখতে হবে।

৮. শর্ট টার্ম লঙ গেইনের টেন্ডেন্সি:
এ সেক্টর যদি আমাদের আয় দেয়, তবে সেটা আমাদের ঘাম ঝরিয়েই আদায় করতে হবে। কোনও একটা নির্দিষ্ট দিন তারিখে আপনার আমার জন্মদিন ঠিকই আসে, কিন্তু সাফল্য দিন তারিখ দেখে আসবে না।
আগে আসতেও পারে, ধরে নিন পরে আসবে। এটাই বাস্তবতা। বিগবসরা শেখায় ঢিল দেয় না, আমরা তো চুঁনোপুঁটিও নই।
৯. উৎপাদনশীল কাজ ও কাজের সাথে জড়িত থাকাকে একই ভাবা:
মার্কেটাররা চার ধরনের কাজকে কাজ মনে করে:
ক. উৎপাদন
খ. টেকনিক্যাল নলেজ
গ. সম্পর্ক অর্জন
ঘ. কাজের ভাবনার সোসাইটির সাথে হ্যাংআউট
চারটাই অতি গুরুত্বপূর্ণ। চারটার কোনটা না থাকলে টেঁকা যাবে না। কিন্তু আমরা যদি হ্যাংআউটকে মনে করি উৎপাদন (এইতো, কাজই তো করছি) – তবে দিন যাবে শুধু, আয় আসবে না।
আমরা করি উল্টোটা, সবার আগে সোশ্যাল হ্যাংআউটকে গুরুত্ব দেই, তারপর দেই সম্পর্ক তৈরিকে, এরপর টেকনিক্যাল নলেজকে এবং সবশেষে উৎপাদনকে। পশ্চিমারা করে ঠিক বিপরীত।
ডিসক্লেইমার:( এখনো আয় শুরু করিনি, কর্মদক্ষতা আমার নেই; কিন্তু সেটা সমস্যা বোঝার ক্ষেত্রে কোনও আবশ্যক বিষয় নয়)
এ লেখাটায় ভাই-বোনদের কাছ থেকে উৎপাদনশীল আলোচনা আশা করি।
উত্তরণের পথগুলো নিয়ে কথা হলে বেশি ভাল হয়।

