Page Content Highlights
মহিলা মাদরাসায় ধর্ষণ ও শিক্ষাবোর্ডের করণীয়:
মাওলানা যুবাইর আহমদ
আলেম। লেখক। গবেষক
মহিলা মাদরাসায় ধর্ষণ ও শিক্ষাবোর্ডের করণীয়: দেশে হাজার হাজার কওমি মহিলা মাদরাসা। এর মধ্যে সম্প্রতি দুটি মাদরাসায় ধর্ষণের ঘটনা পুরো জাতিকে লজ্জিত করেছে। দু’চারজনের জন্য পুরো আলেমসমাজ প্রশ্নের মুখোমুখি।
আগে ভেতরে ভেতরে দুএকটি প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরণের দুর্গন্ধ এসেছে। এখন পুরো জাতির কাছে এটিই লজ্জার খবর।
বেফাক বা আমাদের মুরব্বিরা একটু আগেই সতর্ক হলে হয়তো এ পরিস্থিতি হতো না।
প্রশ্নফাঁসের মতো কঠিন একটি বিষয়কে তারা এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, যা এখন সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও অনুকরণীয়। প্রশ্নফাঁস রোধে প্রযুক্তিগত এ উপায়ের প্রস্তাব করার জন্য ধন্যবাদ বেফাকের সহসভাপতি আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (দা. বা.)কে।
প্রশ্ন ফাঁসের মতো নৈতিক স্খলনের বিষয়টিরও আশা করি সমাধান আসবে। এজন্য বেফাক কিংবা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর জরুরি পদক্ষেপ চাই!
মহিলা মাদরাসায় ধর্ষণ ও শিক্ষাবোর্ডের করণীয়
মুরব্বিদের সমীপে কিছু প্রস্তাব :
১. অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। যে দুচারজন এহেন কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত চাইব আমরা।
কিছুতেই যুক্তি দাঁড় করিয়ে তাদের আড়াল করার চেষ্টা করা যাবে না। এরা ইসলামেরও শত্রু।
দ্বীনি শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতি ও চরম অবমাননা করেছে। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে পবিত্র এ অঙ্গনকে পবিত্র করতে হবে।
২. এ ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স হতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষকের ব্যাপারে এ ধরণের অভিযোগ এলে দ্রুত যাচাই করে সামান্য সত্যতা পাওয়া গেলেও সঙ্গে সঙ্গে তাকে বহিষ্কার করা। কোনো ছাড় দেয়া যাবে না।
৩. মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার একটি নীতিমালা প্রণয়ন দ্রুত করতে হবে। দুটো রুম ভাড়া নিয়েই মহিলা মাদরাসা কিংবা জামিয়া প্রতিষ্ঠা একেবারেই বন্ধ করতে হবে।
জেলায় জেলায় বেফাকের এ সংক্রান্ত একটি শিক্ষা কমিটি থাকতে পারে, যে কমিটি কেউ মাদরাসা (বিশেষত মহিলা) প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে তাদের যথাযথ আবাসন, অবকাঠামো, পর্দাসহ পাঠদানের ব্যবস্থা আছে কিনা তা যাচাই করে পাঠদানের অনুমতির সুপারিশ করবে ওই কমিটি।
সেই সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে বেফাক ওই প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি দেবে।
বেফাকের বা হাইয়ার অনুমতি ছাড়া কোথাও ‘কওমি মহিলা মাদরাসা’ চলবে না। অনুমতিবিহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবে প্রশাসন।
প্রত্যেকটি মহিলা মাদরাসা একজন মুরব্বি আলেমের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে তার পরামর্শে চলবে। প্রত্যেক মহিলা মাদরাসাকে বেফাকের জেলা শিক্ষা কমিটি মনিটরিং করবে।
অভিভাকদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা-ও জানানোর সুযোগ থাকবে ওই কমিটিকে।
এ ধরণের নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার গেলে আলেমরা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। প্রয়োজনে মুহতামিম পরিবর্তন করবে।
ছাত্রীরাও যেন নিজেদের চরিত্র হেফাজতে গুরুত্ব দেয়:
৪. ছাত্রীরাও যেন নিজেদের চরিত্র হেফাজতে গুরুত্ব দেয় সেজন্য তাদেরও আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।
সপ্তাহে এ সংক্রান্ত আলোচনা হতে পারে। যে আলোচনায় মহিলা সাহাবীদের জীবনী থেকে শিক্ষণীয় ঘটনাগুলো শোনানো হবে।
সতিত্ব হেফাজতের গুরুত্ব ও এ ব্যাপারে নারীদের দায় সম্পর্কে তাদেরও সচেতন করা দরকার।
৫. মাঝেমধ্যেই অভিযোগ আসে, মহিলা মাদরাসা থেকে পাসকৃত ছাত্রীরা স্বামীর প্রতি অনুগত না। সুন্দর আচরণ, স্বামীর আনুগত্য ও পরিবার ব্যবস্থাপনায় ইসলামের দিকনির্দেশনা সংক্রান্ত পুস্তক সিলেবাসভুক্ত করা একান্ত প্রয়োজন।
৬. মহিলা মাদরাসায় শতভাগ মহিলা শিক্ষিকা নিশ্চিত করতে হবে। বাইরের বিষয়গুলো দেখার জন্য মুহতামিম পুরুষ দরকার হলে এ ক্ষেত্রে মুহতামিম এমন কাওকে নিয়োগ দেয়া উচিত যার স্ত্রীও ওই মাদরাসার শিক্ষিকা।
তাহলে শয়তান তাকে অনৈতিকতার দিকে আহবান করলেও তার স্ত্রী হবেন এ ক্ষেত্রে বাহ্যিক পাহারাদার।
৭. শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শারিরীক খেদমত গ্রহণ নিষিদ্ধ করা উচিত। এ থেকে অনেক অঘটনের সূত্রপাত হয়।
৮. বালক মাদরাসাগুলোতে শিক্ষকদের ছুটির ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। তারও যে যৌন চাহিদা আছে এটা গুরুত্বের সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে।
অন্তত দু সপ্তাহে একবার যেন ছুটি পান সে ব্যাপারেও বেফাকের নির্দেশনা থাকা দরকার।
আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন!

