দক্ষিণ কোরিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : লেখক,মো:সোলাইমান আল হেলাল।
কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতার নাম তাংকুন।দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীর নাম সিউল,যা কোরিয়ানরা সোউল বলে।
দক্ষিণ কোরিয়ার লোকেরা কোরিয়াকে বলে দেহান মিনগুক ও হানগুক।
দক্ষিণ কোরিয়ার মোট আয়তন ৯৮,৯১৩ বর্গকিলোমিটার।
জলভাগ ২৯০ কিলোমিটার ও স্হলভাগ ৯৮,১৯০ কিলোমিটার। স্হল ভাগের বেশিরভাগ পাহাড়। সবচাইতে উঁচু পাহাড়ের নাম হাল্লাসান পাহাড়। উচ্চতা ১৯৫০ মিটার।
Page Content Highlights
দক্ষিণ কোরিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আলোচনা করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার
কারণ,কোরিয়ানদের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
২০১৮ সালের জুলাই মাসের হিসেব অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যা ৬,৩০,৪৫,৭৫৪ জন প্রায়। মোট জনসংখ্যার ৫০.৩% পুরুষ, এবং ৪৯.৭% নারী।জনসংখ্যার গড় আয়ু ৭৯.২৬ বছর।
জন্মেরহার মৃত্যুর হারের চেয়ে অনেক কম।
মাথাপিছু আয় GDP ৩০,০০০ ইউ এস ডলার।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ২২.৪%,খ্রীষ্টান ২৯.৩% ,অন্যান্য ১.৩% ,নাস্তিক ৪৯.৩% যারা ধর্ম মানেনা।
শিক্ষার হার ৯৮.৩% । পুরুষ ৯৮.৩%.নারী ৯৭.৩%.
দক্ষিণ কোরিয়া ১৮৯৫ সালে চীনের কাছ থেকে মুক্তি লাভ করে।
জাপান দক্ষিণ কোরিয়াকে ১৯১০ সালের ২৯ শে আগষ্ট নিজ সাম্রাজ্য ভুক্ত করে।এবং ৩৫ বছর শাসন করে ১৯১০ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। কোরিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট জাপানের শাসন থেকে মুক্ত হয়।
কিন্তু উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৪৮ সালে পৃথক হয়।
জাপানিরা কোরিয়ার উপর অমানবিক অত্যাচর করে এবং বিশ্বের কাছে কুখ্যাতি অর্জন করে।
কোরিয়ানরা অধিকাংশ মঙ্গলীয় জাতি গোষ্ঠীর।
বিশ্বের শিল্পোউন্নত দেশের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান ১০ম এবং এশিয়ার মধ্যে ২য় কোরিয়ানরা অনেক পরিশ্রমী জাতি শতকরা ৯৭% চাকুরী জীবি।বেকার মাত্র শতকরা ৩ জন।
কোরিয়ান ভাষার ঐতিহ্য ৫ হাজার বছরের বেশি।
কোরিয়ান ভাষার নাম হানগুক মাল এ ভাষা ও বর্ণ মালার আবিষ্কারক রাজা সে জং।
কোরিয়ার ভাষার ইতিহাস কে চারটি সময়কালে ভাগ করা হয়েছেঃ–
- আদিম যুগঃ– প্রথম শতাব্দী
- প্রাচীন যুগঃ– প্রথম থেকে দশম শতাব্দী
- মধ্য যুগঃ– দশম থেকে ষোড়শ শতাব্দী
- আধুনিক যুগঃ– সপ্তদশ শতক থেকে বর্তমান পর্যন্ত।
আধুনিক হাংগুল বর্নমালায় ২৪ টি একক বর্ণ রয়েছে। তবে স্বর ও ব্যাঞ্জনবর্নের সমন্বয়ে কিছু যুক্তবর্ন রয়েছে যেগুলোসহ হাংগুল বর্নমালায় মোট বর্ন ৪০ টি ( ১৪ টি ব্যাঞ্জনবর্ন, ১০ টি স্বরবর্ণ, ৫ টি দ্যিব্যঞ্জন, ও ১১ টি দ্বিস্বর বর্ন )
সারা পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৮ কোটি কোরিয়ান ভাষাভাষী আছে ।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচয়
কোরিয়ার ঐতিহ্য অনেক পুরনো, বিশ্বে ব্যবসা,বানিজ্যে ক্রমেই সফলতার শীর্ষে দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে গিয়েছে।
কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মুদ্রার নাম উয়ন।
খাদ্য তালিকা: কোরিয়ানরা মূলত আমাদের মতন তিন বেলা ভাতই খায়।
কোরিয়ানদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় তাদের দেশের অনেক জনপ্রিয় খাবার আছে ।যেমনঃ–
- সাদাভাত
- কিমবাপ
- বিবিমবাপ
- রামিয়ন বা নুডুলস ইত্যাদি।
কোরিয়ানদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে জিনিসটি প্রায় বাধ্যতামূলক থাকবেই বলা চলে সেটা হলো কিমচি।
কিমচি কোরিয়ানদের জাতীয় খাবার, এবং পৃথিবীর সেরা দশটি খাবারে মধ্যে একটি হলো এই কিমচি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসনিক ব্যবস্থা একটি রাষ্ট্রপতিশাসিত বহুদলীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।
দক্ষিণ কোরিয়ার বড় রাজনৈতিক দল ৫ টি:
- উরি পার্টি OP,
- ডেমোক্রেটিক পার্টি DP,
- ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি DLP,
- গ্র্যান্ড ন্যাশনাল পার্টি GNP,
- পিপলস ফার্স্ট পার্টি PFP.
কোরিয়ার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর: –
- ইনছন

- বুসান
- জেজুদো
- তেগু
- কিমফু
দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় দ্বীপের নাম হচ্ছে জেজু দ্বীপ। প্রায় ২০ লাখ বছর আগে আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাতের ফলে দ্বীপটি সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
কোরিয়ার বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত হলো — বুসান। এছারা গরমে ভ্রমণ করার জন্য অনেকে চলে যায় হেউন্দে সমুদ্র সৈকতে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সমুদ্র বন্দর:-
- ইনছন বন্দর।
- বুসান বন্দর।
দক্ষিণ কোরিয়ায় মেট্রোপলিটেন সিটি:-
- সিউল
- ইনছন
- দেগু
- দে জন
- উল সান
- খোয়াংজু।
দেহের গঠন :
এরা লম্বাও হয় আবার বেটেও হয়। কোরিয়ানদের মুখমণ্ডল চ্যাপ্টা হয় ।
চোখ কিছুটা ছোট হয়।এদের ত্বক সাধারনত উজ্জল ফর্সা হয়।
জাতীয় খেলা:
Taekwondo তাইকোয়ান্ডো হল জাতীয় খেলা ।কারণ এটি প্রায়শই বলা হয় যে, এটি কোরিয়ান উপদ্বীপে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর অনেক আগে থেকেই এটি সনাক্ত করা হয়েছিল।
এ ছাড়াও খেলার দিক থেকে ফুটবল এবং বেসবল দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয়।
আবহাওয়া:
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস থেকে বৃষ্টি পাত হয় এবং জানুয়ারীতে তামমাত্রা ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুন থেকে ৩০-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠানামা করে।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এখন সর্বোচ্চ ৪০-৪২ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ২০-২২ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠানামা করে।
রাজধানী সিউলে রাতে শপিং করার জন্য দুইটি নামকরা মার্কেট আছে নামদেবুন ও দুংদেবুন।
এখানে স্বল্প দামে জিনিস পত্র কেনার জন্য বিদেশীদের কাছে খুব পরিচিত।
source: wikipedia

