জাপানে যাওয়ার সহজ ও পরিপূর্ণ উপায়।

জাপানে যাওয়ার সহজ ও পরিপূর্ণ উপায়।
সুমন (শিক্ষক ও পরিচালক),
সিএলটি।

যে বিষয় নিয়ে লিখতে চেয়েও গত কয়েকদিন লিখতে পারিনি- আজ লিখতেছি। বর্তমানে আমাদের দেশে বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ করে জাপান যাওয়ার ব্যাপারে অনেক মানুষ এর দৌড় ঝাপ চলছে।

কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাব অনুযায়ী, গত বছর মাত্র ১৬৩ জন টেকনিক্যাল ইন্টার্ন জাপানে পাঠাতে পেরেছে বাংলাদেশ। চলতি বছর ৪০০ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও জুলাই পর্যন্ত গেছে মাত্র ১১৯ জন। আরও প্রায় এক হাজার কর্মীর ভাষা প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সাথে জাপানে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে যে চুক্তি হয়েছে সেটাতে শ্রমিকদের তেমন কোনো খরচ নেই।

যে সব বিষয় খরচ লাগতে পারে:

  • ভাষা শিক্ষার খরচ।
  • পাসপোর্ট করার খরচ।
  • মেডিক্যাল করার খরচ।
  • প্লেন ভাড়াও লাগতে পারে।

 

এমতাবস্থায় আমাদের দেশে বিশেষ করে আমাদের ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো কম বেশি অনেক ভুল তথ্য দিচ্ছে এবং অনেক কিছুই হিডেন রাখতেছে যার কারনে অনেক ছেলে মেয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।

সহজভাবে বললে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে আপনাকে জাপান যেতে হলে দুইটা জিনিস থাকতেই হবে ।

জাপানে যাওয়ার সহজ ও পরিপূর্ণ উপায়।

প্রথমেই আপনাকে জাপানি ভাষা শিখতে হবে।

আপনি যে কাজের উপর জাপান যেতে চান সেই কাজের উপর আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা কেননা কাজের উপর স্কীল টেস্ট নেয়া হবে এবং জাপানিজ ভাষার NAT, JLPT, JLCT ও N4 , N5 লেভেলের জ্ঞান।

আর বাকি যে যাই বলুক সবই বাটপারি। কাজের দক্ষতার জন্য আপনার অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট বানিয়ে জমা দেয়ার চিন্তা করে লাভ নেই।

কেননা উনারা জানেন যে আমরা এমন সার্টিফিকেট দোকানে গিয়ে বানাই। সত্যতা যাচাই করতে চাইলে  নিচের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন।

www.moj.go.jp

বিএমইটির অধীনে ২৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে  ভর্তিরযোগ্যতা জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনার যোগ্যতা না থাকলে আপনি এই পথে পা বাড়াইয়েন না। কেননা আপনার কারনে একজন যোগ্য ব্যাক্তির ক্ষতি হতে পারে।

আগে যোগ্য হোন তারপর জাপানে যাওয়ার নাম নিয়েন। যেহেতু চুক্তি হয়েছে ৫ বছরের তাই আপনি প্রয়োজন হলে ১ বছর আগে কাজ শিখুন। যদি শুধুমাত্র টাকার জোরে যেতে চান সেটা আপনার ব্যাপার।

চুক্তি যেহেতু সরকারের সাথে সরকারের। তার মানে আপনি নিঃসন্দেহে সঠিক ভাবে যেতে পারবেন। যেখানে বিন্দুমাত্র জালিয়াতির সুযোগ নেই।

স্টুডেন্ট ভিসা  ভ্রমণ ভিসা বা টুরিস্ট ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে  জানতে এখানে ক্লিক করুন

কিন্তু আমাদের দেশের মানুষকে সঠিক পরামর্শ দিলেও সমস্যা। সেটা কেনো??

আমার কাছে প্রতিদিন ১০-১৫ জন মানুষ আসে জাপান যাওয়ার ব্যাপারে জানতে। সব কিছু বুঝিয়ে বলার পরে বলে এতো ঝামেলা করে যেতে হবে??

লাগলে টাকা নেন ৮-১০ লাখ তবুও এসব ছাড়া পাঠানোর সুযোগ আছে কি?

এখন বলুন এসব মানুষ ধরা খাবেনা তো কে খাবে?? বাঘের মুখের সামনে গিয়ে যদি বলে আমারে খা খা— বাঘ কি বসে থাকবে?

এদের টাকা গুলোই আমাদের দেশের মহামান্য অর্থলোভী মানুষগুলো না নিয়ে ছেড়ে দেবে মনে করেন?

গত জুন মাসের আগ পর্যন্তও জাপানে জব ভিসার ব্যাপারে এতো প্রচার হতোনা যতটা এখন হচ্ছে।

আগে প্রাইভেট ভাবে জব ভিসা হতো তবে তার পরিমান খুব সামান্য ছিলো।

এখনও হয় তবে তার পরিমান খুব সামান্য। কিন্তু এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সি গুলো এমন ভাবে প্রচার করতেছে যে তাদের কাছে গেলেই আপনাকে প্লেনের ছাদে চড়িয়ে জাপান পাঠাবে।

এর আগেও আমি যতজন কে জাপানে প্রাইভেটভাবে যেতে শুনেছি তাদের সবারই N4, N5 লেভেল কমপ্লিট করে ইন্টারভিউ দিয়ে পাশ করে যেতে হয়েছে।

সকল টিটিসিতে ভর্তিরযোগ্যতা জানতে এখানে ক্লিক করুন।

তার মানে সেই একই – নিজের যোগ্যতা প্রমান করেই যেতে হয়েছে।যাই হোক – আমি যেটা বুঝি তা হচ্ছে আপনি বাশ খেতে না চাইলে প্রাইভেটভাবে যাওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

অন্যথায় বাপের জমি বেচা টাকাগুলো এদেশের মানুষ রুপী কুত্তাগুলো নিজের একাউন্টে ডুকিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাবে।

তখন আপনার পরিবারের কি হবে ভেবে দেখবেন?? ৮-১০ লাখ শুনতে ছোট শোনালেও গুনতে যান বা মেনেজ করতে যান তখন বুঝবেন কত ধানে কত চাল।

কি কি ভিসায় জাপান যাওয়া যায়?জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আজ আমার এক ছাত্র তার পরিচিত একজনের অস্ট্রেলিয়ার ভিসা চেক করতে বললো- করলাম— করার পর বুঝলাম দুই নাম্বার জিনিস।

কিন্তু তৈরি করেছে অরিজিনাল কপিকে এডিট করে।

তার মানে দাড়ালো– যারাই প্রাইভেটভাবে ভিসা প্রসেসিং করবে তারাও কিন্তু কানজি দিয়ে নিজেদের মত করে এডিট করে COEলেটার বানিয়ে দেবে।

হয়তো আপনার মত ২০/৩০ জনের কাছ থেকে এভাবে টাকা নিয়ে সে আমেরিকা গিয়ে কেএফসিতে বসে জিএফকে নিয়ে চিকেন ফ্রাই খাবে আর আপনি আপনার মাথার চুল ছিড়বেন অথবা ধারের টাকা শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করবেন।

সময় থাকতে সাবধান হোন।

আর এসব দালাল, এজেন্সি এবং অর্থলোভী মানুষদের কারনে সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে সেলিম রেজা স্যার ট্যাকনিক্যাল ইন্টার্ন নিয়োগ ওপেন করে দিয়েও পরে তা শুধুমাত্র টিটিসির অধীনে করেছে।

লেবু বেশি চিপলে যা হয়। এখনও এসব শয়তানদের কারনে পরবর্তী সার্কুলারে কেমন পদক্ষেপ নেবে তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

আমি জানি – আমার লেখার কারনে অনেকেই আমার উপর নাখোশ হবে তবুও লিখি অন্তত অনেক ছেলের ঘরের শান্তি নষ্ট হবেনা।

এসব লিখার কারনে হয়তো শত্রুতা কিনে আনতেছি তবুও বলতেছি- আই ডোন্ট কেয়ার। এদেশে যতদিন আছি, এই প্রফেশনে যতক্ষন আছি- সব সময় সকলের উপকার করবো তাতে যত ঝামেলাই আসুক না কেনো।

আল্লাহই আমায় হেফাজত করবেন। ইনশাল্লাহ।

জাপানী শ্রমিক

জাপানে যাওয়ার সহজ ও পরিপূর্ণ উপায়।

প্রাথমিক যোগ্যতা:

  • আপনি যদি ইন্টারমেডিয়েট / সমমান পাশ করে থাকেন। 
  • আর আপনার বয়স ১৮-৩০ এর মধ্যে হয় তাহলে ট্যাকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে জাপান যাওয়ার জন্য বিভিন্ন টিটিসিতে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।
  • ট্যাকনিক্যাল ইন্টার্ন ভিশা হচ্ছে কনস্ট্রাকশন কাজ এবং কেয়ার গিভারের কাজ।
  • যদি আপনি এস এস সি / সমমান পাশ + কাজে দক্ষ হোন ।

 মিরপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মহিলা টিটিসি ও পাবনা টিটিসিতে ৪ মাস মেয়াদি কেয়ার গিভার কোর্স চালু আছে।

আপাতত চাহিদা কম থাকায় দুটি টিটিসিতে কেয়ার গিভার কোর্স চালু রাখা হয়েছে উল্লেখ করে ইলিয়াস হোসেন সরকার আরও বলেন, ‘মার্কেট উন্মুক্ত হয়ে গেলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য টিটিসিতে পরিসর বাড়াবো।

বিএমইটির অধীনে ২৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লিস্ট দেখতে  এখানে ক্লিক করুন।।

তাহলে আগামী জানুয়ারী মাসের দিকে দক্ষ শ্রমিক নেয়ার জন্য যে সার্কুলার হবে সেটাতে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

চার মাসের জন্য ভর্তি বাবদ ১ হাজার টাকা দিতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে ১৪টি নির্দিষ্ট খাতে বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী নেবে জাপান।জানতে এখানে ক্লিক করুন।

আপনি যোগ্য হলে এবং পরিক্ষায় পাশ করলে এমনিতেই যেতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই।

শেষকথা হচ্ছে, সব কিছু সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীগন ওপেন করে দিয়েছে।

আপনি তাদের নিরদেশনা অনুযায়ী চলুন এবং করুন। আশা করি যোগ্য হলে সফল হবেন।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দারুসসালাম, মিরপুর, ঢাকা এর ভর্তিরযোগ্যতা 

জাপান বিষয়ে আরো জানতে এই ৩টি পিডিএফ বই পড়ুন ।

এখানে ক্লিক করুন  পিডিএফ ১ পিডিএফ ২ , পিডিএফ ৩

 

আরও পড়তে পারেন:

JLPT N5 Kanji eBook free download

ইপিএস টপিক চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন প্রত্যাশীদের করণীয়

কোরিয়ান লটারীতে নাম আসার পর করণীয়

কোরিয়ান কথোপকথন প্রথম পর্ব

কোরিয়ান বর্ণমালার পরিচয়: প্রথম পর্ব

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার উপায়

কোরিয়ান বর্ণমালা দ্বিতীয় পর্ব

কোরিয়ার লটারির রেজাল্ট ২০২০

 

 

Related Posts

One Response

  1. Romzan

Add Comment

You cannot copy content of this page