Page Content Highlights
কোমর ব্যথা এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
কোমরে ব্যথা মানেই কিডনি সমস্যা নয়,তবে….
অনেকক্ষণ ধরে কাজ করার ফলে এছাড়া আরো অন্য কারণে সাময়ীক কোমর ব্যথা হতে পারে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, কিডনিতে পাথর বা খারাপ ধরনের সংক্রমণ না হলে কোমর ব্যথা হবার কথা নয়।
কোমর ব্যথা এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রোগী কথন
কোমর ব্যথার প্রধান ১৭ টি কারণ এবং চিকিৎসা
কোমর ব্যথার কারণগুলো ও কোমর ব্যথা দূর করার উপায় দেওয়া হলঃ
কোমর ব্যথার কারণঃ
- নন-স্পেসিফিক লো বেক পেন:মাংসপেশি,হাড় ও স্নায়ু— এই তিনটি উপাদানের সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নষ্ট হলে কোমর ব্যথা হয়।
- লাম্বার স্পনডোলাইসিস : কোমরে যে পাঁচটি হাড় আছে তা যদি কোন কারণে ক্ষয় হয়ে যায়, তখন তাকে লাম্বার স্পনডোলাইসিস বলে।
- এলআইডি: ২৫ থেকে ৪০ বছরের মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত এটি বেশি হয়। হাড়ের মধ্যে ফাঁকা জায়গা পূরণ থাকে তালের শাঁসের মতো ডিস্ক বা চাকতি , যদি কোনো কারণে এই ডিস্ক বের হয়ে যায়, ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে।একে এলআইডি বলে ।
- অস্টিওপোরোসিস, ক্যানসার, এইডসসহ অনেকদিন যাবত স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে।
- আর্টিকেরিয়া: বা আম বাতের কোমরে ব্যথা হতে পারে।
- পুরাতন আঘাত: পুরাতন বড় ধরনের আঘাতের ইতিহাস থাকলে,একি সাথে বুকে ব্যথা হলেও কোমর ব্যথা কে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।
- যক্ষ্মা: নতুন বা পুরাতন যক্ষ্মার কারণেও কোমর ব্যথা হতে পারে।
- কিডনিতে স্টোন : কিডনিতে পাথর বা খারাপ ধরনের সংক্রমণ হলে কোমর ব্যথা হতে পারে।
- প্যাংক্রিয়াসের অসুখ হলে ব্যথা হতে পারে।
- স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করার কারণে কোমর ব্যথা হতে পারে।
- স্পাইনা-বাইফিডা: স্পাইনা-বাইফিডা নামক জন্মগত ত্রুটি থাকলে কোমর ব্যথা হয় ।
- ক্যালসিয়ামের অভাব।
- পিরিয়ডের সময় কোমরে ব্যথা হতে পারে।
- পাশাপাশি জ্বর, শরীরের ওজন হ্রাস, অতিরিক্ত ঘাম ,অরুচি, এবং ব্যথাটা কোমর ছাড়িয়ে এক পায়ের হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ছড়ালে অথবা এক পায়ে তীব্র ব্যথা বা অবশভাব ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে সতর্ক হতে হবে।
- প্রস্রাব বা পায়খানার সমস্যা, মলদ্বারের আশপাশে বোধহীনতা, মল ত্যাগের সময় কোমর ব্যথা ,মেরুদণ্ডে বক্রতা, পায়ের দুর্বলতা বা পায়ের মাংসপেশির শুষ্কতা ইত্যাদি উপসর্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
- শীতের সময়টাতে কোমর ব্যথা বেড়ে যায় অনেকের।
- বয়সজনিত মেরুদণ্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, গেঁটে বাত, স্পনডাইলাইটিস, মেরুদণ্ডের স্নায়ুবিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, কোমরের মাংসে সমস্যা, ইনফেকশন, স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদণ্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, মেদ বা ভুড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।
কোমরব্যথাকে অবহেলা করা চলবে না।
কোমরব্যথার সঙ্গে উপরে উল্লিখিত যেকোনো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রোগনির্ণয়ের জন্যকোমরের কিছু পরীক্ষা রয়েছে সেগুলি করতে হবে।
কোমর ব্যথা দূর করার উপায়
কোমর ব্যাথার সাধারন চিকিৎসা:
- পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ওজন ঠিক রাখতে হবে।
- পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।
- পরিমিত পরিমাণে পানি পান করবেন এবং ধূমপান বর্জন করবেন।
- নিয়মিত শরীর চর্চা করা।
- হিজামা বাা কাপিং থেরাপি : হিজামা বাা কাপিং থেরাপি নিতে পারেন ।হিজামায় দূষিত বর্জ্যের সাথে প্রচুর ইউরিক এসিড বের হয়ে কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। তাই যারা কোমর ও বিভিন্ন ব্যাথায় ভুগছেন, তারা হিজামা নিয়ে খুব সহজেই সুস্থ্য জীবনে ফিরতে পারেন।
- ফিজিওথেরাপি :ফিজিওথেরাপি নিতে পারেন ।
- শীতে কোমর ব্যথা বেড়ে যায় অনেকের।ব্যথার জায়গায় সেঁক দিলে যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া যাবে।
- মুসলিম হলে চিকিৎসার পাশাপাশি রুকইয়া করতে পারেন।
- স্প্রিংযুক্ত সোফা, নরম গদি বা চেয়ারে বসবেন না।
কোমর ব্যাথার রোগীর খাওয়া-দাওয়া
কোমর ব্যাথার রোগীর খাওয়া-দাওয়াঃ
- ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার একটু বেশি খেতে হবে।
- নিয়মিত ডিম, দুধ, দই খাওয়ার চেষ্টা করুন ।
- প্রতিদিন পানি খাবেন পর্যাপ্ত পরিমানে৷
- চা-কফি-কোল্ডড্রিঙ্কে-মদ-সিগারেটকে না বলুন ৷
কোমর ব্যথার দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি তোমার বেদনার জায়গায় হাত রাখ এবং তিন বার বিসমিল্লাহ বল এবং সাত বার বল-উচ্চারণ : ` আউযু বিল্লাহি ওয়া ক্বুদরাতিহি মিন সাররি মা আঝিদু ওয়া উহাজিরু।`
(মুসলিম, মিশকাত)অর্থ : আল্লাহ প্রতাপ ও তাঁর ক্ষমতার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এবং ঐ বস্তু হতে, যা অনুভব করছি ও আশংকা করছি, তার অনিষ্ট হতে।
সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিখানো এ দোয়া এবং আমলটি করে ব্যথা বেদনায় থেকে আরোগ্য লাভ করি। আল্লাহ আমাদের এ আমলটি করার তাওফিক দান করুন।
কোমর ব্যথার এলোপ্যাথিক ট্যাবলেট বা কোমর ব্যথার ওষুধের নাম
এখানে কিছু কোমর ব্যথার ট্যাবলেট এর নাম দিচ্ছি ,তবে অবশ্যই আপনাদের রেজিস্টার্ড ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করে খেতে হবে।
নিচের যে কোন একটি ফলো করতে পারেন।
- কোমর ব্যাথার জন্য লিনডাক এবং ক্যালসিয়াম এর জন্য ক্যালবো টেবলেট খেতে পারেন।
- অথবা আপনি Neso 500/20 mg ট্যাবলেট এবং ক্যালসিয়াম এর জন্য coralcal-D খেতে পারেন।
- অথবা ক্যালসিয়ামের জন্য Radiant এর কোরাক্যাল-ডি খেতে পারেন।
- কোমর ব্যাথার জন্য anaflex,relaxo and calbo d খেতে পারেন।
অতিরিক্ত ব্যথা এবং সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।
কোমর ব্যাথার হোমিও ঔষধঃ
হোমিওপ্যাথিতে কোমর ব্যাথার খুব ভালো চিকিৎসা আছে ।
নিচে সে বিষয়ে আলোচনা করা হলঃ
কোমর ব্যাথার হোমিও ঔষধঃ
- রাস টক্স: রাস টক্স প্রাথমিক কোমর ব্যথার চমৎকার ঔষধ ভারি কাজ বা একটানা বেশীক্ষণ বসে থাকার কারনে কোমর ব্যথা।
- ব্রায়োনিয়াঃ তরুন ও পুরাতন কোমর ব্যথায় ব্রায়োনিয়া ব্যবহৃত হয়।
- রুটাঃ তরুন কোমর ব্যথার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হলো রুটা, রুটার রোগীরা হাঁটাচলা বা উঠাবসায় হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার মতো এক শব্দ হয় ।
- আর্নিকাঃ পড়ে গিয়ে আঘাত পেলে বা যেকোন উপায়ে আঘাত পেয়ে কোমরব্যথা হলে আর্নিকা কার্যকরী।
- লিডামঃ বাত ব্যথা কোমর থেকে উপরের দিকে ধাবিত হয়। বসে থাকলে বা বসা থেকে উঠতে গেলে বৃদ্ধি।
- কেলকেরিয়া ফ্লোরঃ কোমরের হাড় ক্ষয় হেতু কোমর ব্যথা হলে কেলকেরিয়া ফ্লোর কার্যকরী, সাথে কোমরে শক্তবোধ হয়।
- হাইপেরিকামঃ আঘাত লাগার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের পুরাতন কোমর ব্যথা হলে হাইপেরিকাম কার্যকরী।
- কেলি কার্বঃ পুরাতন কোমর ব্যথার চমৎকার ঔষধ কেলি কার্ব, কোমরে অসহ্য শুচ ফোঁটানো ব্যথা এবং ব্যথা রাতের বেলায় বেশি হয় বিশেষ করে রাত্রি ২-৩টার দিকে।
- কষ্টিকামঃ যে সকল মহিলারা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের জন্য কষ্টিকাম অমৃতের মত।
- 1 Arnica 200 2 drops 2 times a day
- 2 Rhus tox 30 Ruta 30 Bellis perennis 30 2 drops 3 times a day
- 3 Vertefine drop 20 drops three times a day with some water
কোমর ব্যথা এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

